দুদকের মামলায় সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেফতার হয়েছেন। সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজ বিষয়টি জানিয়েছেন।
বেনজীর আহমেদকে ধরতে গতবছর ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারি করা হয়েছিল। ওই রেড নোটিসের ভিত্তিতেই বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাত পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বেনজিরের আটক সংবাদ আসার পর সাংবাদিক Zulkarnain Saer ফেসবুকে বেনজিরের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ডকুমেন্টটি প্রকাশ করেন।
ওই নোটিসকে ফটোশপড দাবি করে Shariful Sumon নামের এক ব্যক্তি সেটিকে ভুয়া হিসেবে উল্লেখ করে লিখেছেন– ইন্টারপলের ৫৯ জন বাংলাদেশির নাম আছে, কিন্তু সেখানে বেনজিরের নাম নেই। এটির ভিত্তিতে তিনি সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের-এর প্রকাশিত নোটিশকে ভুয়া হিসেবে দাবি করেছেন।
তবে, ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটের প্রকাশিত তালিকায় নাম না থাকা রেড নোটিশ জারি না হওয়ার প্রমাণ নয়। কারণ, ইন্টারপোল অধিকাংশ নোটিশই পাবলিকলি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে না।
ইন্টারপোল তাদের ওয়েবসাইটে বিষয়টি স্পষ্ট করেছে।
About notices পেজে তারা লিখেছে:
"Most Notices are for police use only and are not available to the public. However, an extract of the Notice can be published on this site if the requesting country wishes to alert the public or seek their help."
পাবলিক সার্চ পেজেই তারা লিখেছে: "The majority of Red Notices are restricted to law enforcement use only.
Extracts of Red Notices are published at the request of the member country concerned and where the public’s help may be needed to locate an individual or if the individual may pose a threat to public safety."
অর্থাৎ, রেড নোটিশের অধিকাংশই পাবলিকলি প্রকাশ করা হয় না। অধিকাংশ নোটিশই 'Restricted', আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার ব্যবহারের জন্য সীমাবদ্ধ, যা দেশগুলোর পুলিশের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে দেখায়।
ইন্টারপোলের সাইটে থাকা তালিকাটি একটি আংশিক তালিকামাত্র। ইন্টারপোল কেবল সংশ্লিষ্ট দেশের অনুরোধে নির্দিষ্ট কিছু রেড নোটিশের অংশবিশেষ প্রকাশ করে।
কোনো অপরাধীর নাম ওই তালিকায় প্রকাশ করা হবে কি না, তা মূলত নির্ভর করে যে দেশ নোটিশের আবেদন করেছ তাদের ওপর। ফলে, তদন্তের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য একটি দেশ চাইলে ইন্টারপোলকে রেড নোটিশ পাবলিকলি প্রকাশ করতে নিষেধ করতে পারে। যখন কোনো দেশ কোনো অপরাধীকে ধরতে পাবলিকের হেল্প নেওয়ার প্রয়োজন মনে করে তখন তারা সেটি পাবলিকলি প্রকাশের অনুরোধ করে থাকে। কিংবা যখন অপরাধী পাবলিক সেফটির জন্য হুমকি তখন পাবলিককে এলার্ট করার জন্য প্রকাশ করতে বলতে পারে। শুধু জাতিসংঘের সকল বিশেষ নোটিশ পাবলিক থাকে।
ফলে, ইন্টারপোলের পাবলিক সার্চ তালিকায় নাম না থাকা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে রেড নোটিশ নেই এমন প্রমাণ করে না। তাই, পাবলিক তালিকায় না থাকার ভিত্তিতে Zulkarnain Saer-এর প্রকাশিত নোটিশকে ভুয়া বলার ভিত্তি নেই।