ফুটবল টিমে কিছু প্লেয়ার আসে,আপনার টিমের দূর্বল জায়গা গুলোর মেরামত করতে, ঘাটতি পূরণ করতে।
আর কিছু প্লেয়ার আসে সেই প্লেয়ার গুলোর দূর্বল জায়গা গুলো পূরণ করতে। রাহুল ভেকে তার উদাহরণ...
গত সিজনে যে এক এবং একমাত্র কারণের জন্য আমাদের অ্যাটাক, ডিফেন্স,মাঝমাঠ প্রত্যেকে অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছিল তা হচ্ছে একজন জেনুইন বল ক্যারিয়ার এর অভাব। সে নম্বর আট পজিশনের হোক কিংবা নম্বর দশ।
এবার সামির এবং মিগুয়েল আসায় সেই দূর্বল জায়গার মেরামত করা গেছে। সামির এর অন্তর্ভুক্তি আমার এই কারণেই এতটা প্রিয় যে ও সমগ্র একাদশ টাকে একটা শক্ত ভিত প্রদান করে।
ডিফেন্সিভ কোয়ালিটি - প্রেস রেজিস্ট্যান্ট, ট্যাকলিং, প্রতিপক্ষর দশ কে প্রেসিং এগুলো তো আমরা সবাই জানি, এগুলোর সাথেও ওর সবচেয়ে বড় গুন ও বল ক্যারি করতে পারে,তার ফলে মিগুয়েল কে পুরো ম্যাচ জুড়ে একা বল ক্যারি করার দায়িত্ব নিতে হবে না।
নিজের এনার্জি বাঁচানোর জন্য হোক বা অপোনেন্ট এর CDM-র থেকে নিজেকে আনমার্ক করার জন্য হোক মিগুয়েল চাইলে কিছুটা ওপরেই দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে কিছু ক্ষেত্রে।
এবার আসি যাকে নিয়ে পোস্ট রাহুল ভেকে তার কথায়...
আমার কাছে চারটে সাইনিং এর মধ্যে এই সাইনিং টা সম্ভবত দ্বিতীয় স্থানে থাকবে।
খুব সাধারণ ভাবেই মনে হতে পারে বছর ৩৫ এর নিজের প্রাইম পেরিয়ে আসা একটা প্লেয়ার কে নিয়ে আমি কেন এতটা খুশী?
আমাদের ডিফেন্স এবং মাঝমাঠের ডিফেন্সিভ পজিশন মিলিয়ে হাতে দুজন বিদেশী প্লেয়ার - রড এবং সামির।
সব ম্যাচে না হলেও ৫৫-৬০ শতাংশ ম্যাচে( ইনক্লুডিং ৯০ শতাংশ অ্যাওয়ে ম্যাচ) আমাদের সামির কে নিয়ে শুরু করতে হবে বা করা উচিত, মিগুয়েল এর উপর ডিফেন্সিভ ওয়ার্কলোড না আসতে দেওয়ার জন্য এবং আপুইয়া কে নিজের বেস্ট পজিশন এ কমফোর্টেবল ফুটবল খেলতে দেওয়ার জন্য
দ্বিতীয় বিদেশী রড কে পুরো সিজন জুড়েই ব্যাক ফোরে খেলতে হবে। এখানেই ছিল সবচেয়ে বড় লুপহোল......
রড এর কার্ড সমস্যা,চোট সমস্যার জন্য যদি কিছু ম্যাচে ওকে না পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে সেই ম্যাচে গুলোয় আমাদের সামির কে স্টপার খেলাতে হত... এবার সামির স্টপারে যাওয়া মানে মাঝমাঠে আপুইয়া এর পাশে ভারতীয় প্লেয়ার।
সাধারণ ম্যাচ হলে অসুবিধা নেই,কঠিন ম্যাচ হলে অনেক অসুবিধা। আর সামির স্টপার খেলা মানে দুটো পজিশনে চেঞ্জ একসাথে - ডিফেন্স এবং মাঝমাঠ।
রাহুল ভেকে আসায় একসাথে অনেক গুলো সমস্যার সমাধান হল। রড না থাকলে রাহুল-মেহতাব পেয়ার স্টপার খেলবে, সামনে আপুইয়া - সামির পিভোট।
কোনো ম্যাচে তিন ব্যাক যেতে হলে রাহুল রড মেহতাব এর অপশন রইল। কোনো ম্যাচে লেফট উইং এ ড্রাজিচ খেললে,ওকে ডিফেন্সিভ ওয়ার্ক রেট কম দিতে হলে ওর লাইনে লেফট ব্যাক হিসাবে টেকচাম কে আনা যাবে, রাইট ব্যাকে মেহতাব কে কারণ স্টপারে রড এর পাশে রাহুল আছে।
ইভেন কঠিন ম্যাচ এর ব্যাক ফোর এটাই হওয়া উচিত।
এছাড়া ম্যাচ ক্লোজ করার প্রয়োজন হলে রাহুল কে পরে নামিয়ে ৫ ব্যাকে যাওয়ার অপশন ও থাকবে।
রড এর অনুপস্থিতিতে আমি যে কোনো দিন দুজন ডেডিকেটেড ভারতীয় সেন্টার ব্যাকেই খেলতে চাইব,একজন মেকশিফট সেন্টার ব্যাক এর থেকে। এবং মেকশিফট সেই সেন্টার ব্যাক কে মাঝমাঠে খেলাব।
এছাড়াও রাহুল গত দুটো সিজন জুড়ে ভারতীয় ব্যাক ফোরে যথেষ্ট স্ট্যান্ডার্ড গেম দিয়েছে এবং খুব ভালো মানের ডিফেন্সিভ মাঝমাঠ ছাড়াই। রড এর পাশে খেললে এমনিও অনেক সাবলীল ফুটবল খেলবে,দরকারের সময় মেহতাব এর পাশেও।
তাই এই একটা প্লেয়ার আসায় আমাদের দুজন ডিফেন্সিভ ইউনিট এর বিদেশীদের অনেকটা প্রোটেক্ট করা গেল...তাদের অনুপস্থিতিতে ডিফেন্স কে অনেকটা প্রোটেক্ট করা গেল।
রাহুল ভেকে আসুক,দেশের শ্রেষ্ঠ ক্লাবে খেলুক, শিল্ড জিতুক।জার্সি তুলে রাখার আগে এরকম সৌভাগ্য সবাই পায় না...
জয় মোহনবাগান
কলমে ~ অরিন্দম চ্যাটার্জী
{ Joy Mohun Bagan, MBFT }