বেগম খালেদা জিয়া - এক হার না মানা দেশনেত্রী
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামে ইতিহাসে সর্বাধিক সাফল্য ও কৃতিত্বের অধিকারী রাজনৈতিক নেত্রী, চার বারের প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আজ ইন্তেকাল করছেন। ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন। মহান আল্লাহর দরবারে তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। তাঁকে বেহেশত নসিব করুন। শোকাহত পরিবারের সদস্য এবং দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।
…*১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্মগ্রহন করেন।
…* স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী খালেদা জিয়া ১৯৮৪ সালে একজন গৃহবধু থেকে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহন করে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে সফলকাম হয়ে এদেশে গণতান্ত্রিক সংগ্রামের আপোষহীন নেত্রী হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
…* পরবর্তীতে ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিরোধী দলের দাবী মেনে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের অধীনে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন। সংসদীয় পদ্ধতি প্রবর্তনের পরে দ্বিতীয় বারের মত প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেন।
…* ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তৃতীয় বারের মত প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন। স্বল্পতম মেয়াদের এ সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন, যা বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় একটি গ্রহণযোগ্য উপায় হিসাবে জনগণ গ্রহণ করে। একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করার লক্ষে তিনি ক্ষমতা ধরে না থেকে সংসদ ভেঙে দেন।
…* পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালের জুন মাসের ৭ম সংসদে সর্বকালের বৃহত্তম বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচিত হন। …* ২০০১ সালের ১লা অক্টোবরের সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের মধ্য দিয়ে পূণরায় ক্ষমতায় আসেন, এবং চতুর্থবারের মত প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হন।
…* ২০০৮ সালে সেনানিয়ন্ত্রিত জরুরী অবস্থার সময় তাঁ কারারুদ্ধ করা হয়। তিনি রাজনীতি ছেড়ে বিদেশে চলে যেতে অস্বীকৃতি জানান। জরুরী অবস্থার মধ্যে আয়োজিত কন্ট্রোল্ড ও পূর্বনির্ধারিত ফলাফলের নির্বাচনে তিনি বিরোধী দলীয় নেতা পদে আসীন হন।
…* এরপরে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারী শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন বয়কট করেন, ঐ সময় তাঁকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়।
…* তিনি বহুবার বলেছেন, “এই দেশের মাটি এবং মানুষই আমার সবকিছু। এদেশ ছেড়ে কোথাও যাব না। এদেশে আমার জন্ম, এখানেই মরতে চাই”।
…* ২০১৮ সালের মিডনাইট নির্বাচন অনুষ্ঠানের কিছুকাল আগে তাঁকে মিথ্যা মামলা দিয়ে রাজবন্দী করা হয়।
…* বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফেরানোর আন্দোলনে খালেদা জিয়ার নিরলস সংগ্রাম, আপোষহীনতা, কারাবরণ, ও ত্যাগ তিতিক্ষার কারণে তিনি বাংলাদেশের অভিবাবক ও ‘গণতন্ত্রের মা’তে পরিণত হয়েছেন।
…* বাংলাদেশের সর্বাধিক জনপ্রিয় দল বিএনপির সাড়ে তিন দশকের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াই একমাত্র রাজনৈতিক নেত্রী যিনি কখনও কোনো নির্বাচনে হারেননি। বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার সর্বমোট ২৩টি আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে সবগুলোতেই বিজয়ী হয়েছেন। বাংলাদেশের জাতীয় এই নেত্রীর অনবদ্য সংগ্রাম ও অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ যুক্তরাষ্ট্র থেকে “ফাইটার ফর ডেমোক্রেসি" ভুষিত করা হয় দেয়া হয়। এই বিশেষ সন্মাননা পুরষ্কারটি দেয়া হয় তিনটি কারণে:
১. সংসদীয় গণতন্ত্র ব্যবস্থার জন্য তার আপোষহীন সংগ্রাম।
২. সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অনড় অবস্থান ও শক্ত হাতে দমন।
৩. নারীর ক্ষমতায়ন ও গ্রামীণ নারী সমাজকে স্বনির্ভর হিসাবে গড়ে তুলতে পারার জন্য তার শাসন আমলে নেয়া পদক্ষেপ সমূহের জন্য।
মার্কিন সিনেটররা সেদিন দেশনেত্রীকে এক আবেগঘণ পরিবেশে জানিয়েছিলেন তাদের প্রাণ ঢালা অভ্যর্থনা, অভিভাষণ ও অভিনন্দন।
দেশের কল্যানে অবিংসবাদিত এ নেত্রীর উৎসর্গিত অবদানের প্রতি দেশবাসীর অপরিসীম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা॥ 🫡🇧🇩